বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তারানাথ তান্ত্রিক উপন্যাস-- Taranath Tantrik -- Bangla golpo
তারানাথ তান্ত্রিক - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় Taranath উপন্যাস
সকাল থেকেই মেঘলা। দুপুরের দিকে বেশ একপশলা বৃষ্টিও হয়ে গেল। তারপর আর বৃষ্টি নেই বটে, কিন্তু আকাশ থমথম করছে কালো মেঘে। জোলো বাতাস দিচ্ছে।
এমন দিনে মনে একটা কি করি কি করি ভাব হয়। দু-একখানা বিলিতি ম্যাগাজিন বন্ধুদের কাছ থেকে চেয়ে এনে পরে পড়ব বলে জমিয়ে রেখেছিলাম। এখন সেগুলো উলটে-পালটে দেখলাম বাদলার দিনের মেজাজের সঙ্গে ঠিক খাপ খাচ্ছে না। কি করা যায়? স্ত্রীর সঙ্গে গল্প করব? নাঃ, সাত বছর বিয়ে হয়ে যাবার পর আর বাদলার
দিনে খোলা জানলার ধারে স্ত্রীকে নিয়ে কাব্য চলে না। যতই নিষ্ঠুর শোনাক, কথাটা সত্য।
মহাকালের নির্মমতা এবং অতীত সুখের দিন সম্বন্ধে বিমর্ষ ভাবে চিন্তা করছি, এমন সময়
দরজার কড়া নড়ে উঠল।
উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেখি কিশোরী সেন। ভেতরে ঢুকে কাদামাখা রবারের পাম্পশু ছাড়তে ছাড়তে সে হেসে বললে, এই বর্ষার দিনে বাড়ি বসে করছ কি? বললুম, যে অশ্ব নেই তার তৃণ সংগ্রহ করছিলুম। খুব ভাল হয়েছে তুমি এসেছ। একেবারে মিয়োনো দিন, না?
কিশোরী বললে, আর বসে কাজ নেই। একটা জামাটামা যাহোক কিছু গলিয়ে নাও। চল, তারানাথ জ্যোতিষীর বাড়ি ঘুরে আসি। আর কিছু না হোক, দু-একটা আজব গল্প তো শোনা যাবে। এমন দিনেই তো উদ্ভট গল্প জমে তারানাথের কথা আমার যে কেন আগেই মনে পড়েনি তা ভেবে অবাক লাগল। বললুম,
বসো, ধুতিটা বদলে নিই—
( म ।বললুম, যে অশ্ব নেই তার তৃণ সংগ্রহ করছিলুম। খুব ভাল হয়েছে তুমি এসেছ। একেবারে "মিয়ানো দিন, না?
কিশোরী বললে, আর বসে কাজ নেই। একটা জামাটামা যাহোক কিছু গলিয়ে নাও। চল,
তারানাথ জ্যোতিষীর বাড়ি ঘুরে আসি। আর কিছু না হোক, দু-একটা আজব গল্প তো শোনা
যাবে। এমন দিনেই তো উদ্ভট গল্প জমে তারানাথের কথা আমার যে কেন আগেই মনে পড়েনি তা ভেবে অবাক লাগল। বললুম,
বসো, ধুতিটা বদলে নিই— পথে বেরিয়ে বললুম, ট্রামে উঠে কাজ নেই। মাসের শেষ, সেই আট পয়সা দিয়ে বরং
সিগারেট কেনা যাবে। হেঁটে মেরে দিই চল। এইটুকু তো পথ—
কিশোরীরও মাসের শেষ। আট পয়সার পাশিং শো কিনে হাঁটুতে হাঁটতে দুজনে মট্ লেনে
তারানাথের বাড়ি হাজির হলুম। দরজা খুললে তারানাথের মেয়ে চারি। আমাকে দেখেই বললে, কাকাবাবু, আজ আমার
লেসের ডিজাইন ভোলেননি তো? রোজ-রোজই আপনি ভুলে যান আজ ভুলিনি। আগে থেকেই পকেটে রেখে দিয়েছিলাম। বের করে হাতে দিতে চারি
হাসিমুখে বাড়ির ভেতরে যেতে যেতে বললে, বসুন, বাবাকে ডাকি খবর পেয়ে তারানাথ খুব খুশী হয়ে বেরিয়ে এল। বহুদিনের মধ্যে তারও এমন একনিষ্ঠ
শ্রোতা ও ভক্ত জোটেনি। গল্পে লোক শ্রোতার মর্ম বোঝে। তক্তাপোশে বসতে বসতে তারানাথ বললে, তারপর, হঠাৎ যে?
বললুম, ভাল লাগছিল না বাড়ি বসে। তাই আড্ডা দিতে চলে এলুম। দু'একখানা গল্প হবে
নাকি?
তারানাথ স্পষ্টতই খুশী হল, বললে, বসো বসো জমিয়ে আগে। কি খাবে বল? ও চারি,

0 Comments
Thanks for comment. regular visit to get more update