মাধ্যমিক পর্যায়ে উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষ, কোষের গঠন এবং বিভিন্ন অঙ্গাণুর গঠন ও কাজ সম্বন্ধে তোমরা পড়েছ। এ
কোষ ও এর গঠন
CELL AND ITS STRUCTURE
অধ্যায়ে বিশেষ করে উদ্ভিদকোষের বিভিন্ন অঙ্গাণুসমূহের অবস্থান, গঠন ও কাজ সম্বন্ধে আরও বিস্তারিত জানতে পারবে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা --
১. কোষ প্রাচীর ও প্লাজমামেমব্রেন এর অবস্থান, রাসায়নিক গঠন ও কাজ বর্ণনা করতে পারবে।
২. সাইটোপ্লাজমের রাসায়নিক প্রকৃতি এবং বিপাকীয় ভূমিকা বর্ণনা করতে পারবে।
৩. রাইবোসোম, গলগি বন্ধ, লাইসোজোম সেন্ট্রি যোগ-এর অবস্থান, গঠন ও কাজ বর্ণনা করতে পারবে। 18. গঠন ও কাজের ভিত্তিতে মসৃন ও অমসৃন এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে।
৫. মাইটোকন্ড্রিয়নের বহিঃগঠন ও অগ্রগঠনের সাথে এর কাজের আন্তসম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারবে।
৬. ক্লোরোপ্লাস্টের বহিঃগঠন ও অগঠনের সাথে এর কাজের আত্মসম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারবে।
৭. নিউক্লিয়াসের গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করতে পারবে। 5. নিউক্লিওপ্লাজম ও সাইটোপ্লাজমের রাসায়নিক গঠনের মধ্যে তুলনা করতে পারবে।
৯. কোষের বিভিন্ন অঙ্গানুর চিত্র অর্জন করে চিহ্নিত করতে পারবে। ১০. জীবের বিভিন্ন কার্যক্রমে কোষের অবদান উপলব্ধি করতে পারবে।
১১. কাঠের বাসায়নিক উপাদান বর্ণনা করতে পারবে।
১২. কোষ বিভাজনে ক্রোমোজোমের ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারবে।
১০. ডিএনএ ও আরএনএ গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করতে পারবে।
১৪. আরএনএ এর প্রকারজেন রাখ্যা করতে পারবে। ১৫. ডিএনএ রেপ্লিকেশনের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারবে।
১৬. ট্রান্সক্রিপশনের কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারবে।
১৭. ট্রান্সলেশন ব্যাখা করতে পারবে।
১৮. জিন ও জেনেটিক কোড বর্ণনা করতে পারবে।
১৯. বংশগতীয় বস্তু হিসেবে ডিএনএ এর অবদান উপলব্ধি করতে পারবে।
কোষ বা Cell (সেপ) নামকরণ Robert Hooke (1635-1703) ১৬৬৫ সালে রয়েল সোসাইটি অব লন্ডন এর যন্ত্রপাতির রক্ষক নিযুক্ত হয়েই ভাবলেন আগামী সাপ্তাহিক সভায় উপস্থিত বিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের সামনে একটা ভালো কিছু উপস্থাপন করতে হবে। তিনি ভাবলেন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে একটা কিছু করা যায় কিনা। তিনি দেখলেন কাঠের ছিপি (cork) দেখতে নিরেট (solid) অথচ পানিতে ভাসে, এর কারণ কী? তিনি ছিপির একটি পাতলা সেকশন করে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করলেন। তিনি সেখানে মৌমাছির চাকের ন্যায় অসংখ্য ছোট ছোট কুঠুরী বা প্রকোষ্ঠ (little boxes) দেখতে পেলেন। তখন তাঁর মনে পড়লো আশ্রমে সন্ন্যাসীদের বা পাদ্রিদের থাকার জন্য এমন ছোট ছোট Cell (প্রকোষ্ঠ) তিনি দেখেছেন। এ থেকেই ছিপির little box গুলোকে তিনি নাম দেন Cell বা প্রকোষ্ঠ। ল্যাটিন Cellula থেকে Cell শব্দের উৎপত্তি যার অর্থ ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠ বা কুঠুরী। তিনি তাঁর পর্যবেক্ষণ Micrographis গ্রন্থে প্রকাশ করেন। জেলখানায় কয়েদিদের জন্য নির্মিত ছোট ছোট প্রকোষ্ঠকেও সেল বলা হয়। অধিকাংশ কোষই আণুবীক্ষণিক, খালি চোখে দেখা যায় না। তবে এর কিছুটা ব্যতিক্রমও লক্ষ করা যায়। পাখির ডিম একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত। হাঁস-মুরগির ডিম খালি চোখেই দেখা যায়। উটপাখির ডিম সবচেয়ে বড় কোষ ( 17cm x 12.5 cm)। তুলা বা পাটের আঁশ, তালগাছের আঁশ বেশ লম্বা, খালি চোখে দেখা যায়। মানুষের নিউরন কোষ প্রায় 1.37 মিটার লম্বা। Cell-এর বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে কোষ বা জীবকোষ। রবার্ট হুক প্রকৃতপক্ষে মৃত কোষ তথা কেবল প্রকোষ্ঠই দেখেছিলেন। পরে ডাচ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক (Antony Van
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন, লক্ষ্য কর একটা ভালো কিছু করার ইচ্ছা চেষ্টা থেকেই কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব।
- (সা)
জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র
Lecuwenhock) প্রথম ১৬৭৪ সালে কোষ প্রাচীর ছাড়াও ভেতরে পূর্ণাঙ্গ কোষীয় দ্রব্যসহ জীবিত কোষ পর্যবেক্ষণ করেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিজ্ঞানী কোষের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
• Jean Brachet (1961) এর মতে- 'কোষ হলো জীবের গঠনগত মৌলিক একক।
Loewy and Siekevitz (1963) এর মতে- 'কোষ হলো জৈবিক ক্রিয়াকলাপের একক যা একটি অর্ধভেদ্য কিন্তুি
দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে এবং যা অন্য কোনো সঞ্জীব মাধ্যম ছাড়াই আত্ম-প্রজননে সক্ষম।'
* C. P. Hickman (1970) এর মতে- 'কোষ হলো জৈবিক গঠন ও কার্যের একক এবং এটিই ন্যূনতম জৈবিক একর যা নিজের নিয়ন্ত্রণ ও প্রজননে সক্ষম।
• De Roberties (1979) এর মতে- 'কোষ হলো জীবের মৌলিক গঠনগত ও কার্যগত একক।'
প্রথম কোষের সৃষ্টি
১৮৮০ দশক থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয় যে পূর্ব থেকে বিরাজমান কোষ থেকেই নতুন কোষের সৃষ্টি (Cells come from pre-existing cells)। কিন্তু বহুপূর্বে পৃথিবীতে কোনো কোষই ছিল না, তাহলে Preexisting cell এলো কোথা হতে? প্রথম কোষ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল?
Alexander Oparin এবং J.B.S. Haldane (1920) বলেন যে আদিকালের বায়ুমণ্ডলে মিথেন (CH)), অ্যামোনিয়া (NH), হাইড্রোজেন (H+) এবং পানি (জলীয় বাষ্প HO) ছিল কিন্তু মুক্ত O ছিল না। এসব গ্যাসসমূহের পরস্পর ঘর্ষণের ফলে কোনো জৈব অণু সৃষ্টি হয়েছে।
করেন যার ফলে অ্যামিনো অ্যাসিড সৃষ্টি হয়েছিল।
Stanley Miller এবং Harold Urey (1953) গবেষণাগারে উপরিউক্ত গ্যাসসমূহ একত্রে করে ইলেক্ট্রিক প্রবাহ প্রদান অনেকেই মনে করেন আদি জীবন সম্ভব সরল RNA ছিল, যা থেকে পরে প্রোটিন তৈরি হয়েছিল। এই ধারণা RNA
World হাইপোথেসিস নামে পরিচিত।
(i) প্রথম কোষ অবশ্যই জড় উপাদান থেকে সৃষ্টি হয়েছিল।
বিষয়টি দাঁড়ায় নিম্নরূপ :
(ii) লাইটেনিং-এর ফলে বায়ুমণ্ডলে বিরাজমান CH, NH, HD H থেকে অ্যামিনো অ্যাসিড সৃষ্টি হয়েছিল। (iii) গভীর সমুদ্রে কার্বন যৌগ ও পলিমার সৃষ্টি হয়েছিল। (iv) পরবর্তীতে ফসক্রোলিপিড বাইলেয়ার তৈরি হয়েছিল ০
শোষক বেল
(v) RNA-এর মাধ্যমে বংশগতির ধারা প্রবাহ শুরু হয়েছিল।
0 Comments
Thanks for comment. regular visit to get more update